উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে, কিন্তু বাস্তবে সেই স্বপ্নপূরণ করতে গেলে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় অর্থনৈতিক সমস্যা। তবে আপনি যদি উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন দেখে থাকেন এবং উচ্চমাধ্যমিক পাস করে থাকেন তাহলে আপনার জন্য এলো বিশাল বড় একটি সুখবর। এবার প্রধানমন্ত্রী স্কলারশিপের তরফ থেকে আপনি পেয়ে যাবেন একবারে ৭৫ হাজার টাকা। কলেজে ভর্তি ফি, বইপত্র, হোস্টেল খরচ, কোচিং—সব মিলিয়ে খরচের পরিমাণ অনেক সময় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যায়। এই পরিস্থিতিতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতেই কেন্দ্র সরকার চালু করেছে Pradhan Mantri Scholarship Scheme 2026। এই স্কিমের মাধ্যমে যোগ্য ছাত্রছাত্রীরা বছরে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন, যা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। আপনিও যদি একজন যোগ্য প্রার্থী হয়ে থাকেন তাহলে আপনিও এই স্কলারশীপে আবেদন জানাতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী স্কলারশিপ স্কিম ২০২৬ কী?

PM Scholarship Scheme 2026 হল কেন্দ্রীয় সরকারের একটি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প, যার লক্ষ্য উচ্চশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা। চলতি বছরের শুরুতেই মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আর্থিক সহায়তা দিতে চাচ্ছে সরকার। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী, CAPF এবং RPF-এ কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের সন্তানদের জন্য এই স্কিম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন। সমস্ত শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা এই স্কলারশীপে আবেদন জানাতে পারবেন। এই স্কিমের মূল উদ্দেশ্য হল—টাকার অভাবে যেন কোনও শিক্ষার্থী পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দিতে বাধ্য না হয়। তাই আর্থিক সমস্যা সমাধান করতে বছরের ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে ৭৫ হাজার টাকা করে তুলে দেওয়া হবে কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে এই স্কলারশিপের মাধ্যমে।

Read Also: E Shram Card 2026: কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে মাসিক ₹৩,০০০ পেনশন ও একাধিক সুবিধা

এই স্কলারশিপের মূল উদ্দেশ্য

বর্তমান সময়ে পেশাদার কোর্স যেমন ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যাল, ম্যানেজমেন্ট, নার্সিং বা টেকনিক্যাল শিক্ষার খরচ ক্রমশ বাড়ছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাদারী কোর্স এবং ডিগ্রী কোর্সের খরচও দিনের পর দিন আগের তুলনায় বেড়ে যাচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হল এমন একটি সহায়তা ব্যবস্থা তৈরি করা, যাতে মেধা অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কাছে হার না মানে। শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার এবং একইসঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ভিত্তি। তাই এই স্কলারশিপ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সহায়তা নয়, এটি জাতীয় উন্নয়নেরও অংশ।

কারা আবেদন করতে পারবেন? (Eligibility Criteria)

এই স্কিমে আবেদন করার জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। আবেদনকারীর বাবা বা মা সশস্ত্র বাহিনী, CAPF বা RPF-এ কর্মরত, অবসরপ্রাপ্ত বা শহীদ হয়ে থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এছাড়াও নির্দিষ্ট সংরক্ষিত শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও যোগ্য হতে পারেন, যদি তারা অন্যান্য শর্ত পূরণ করেন। সমস্ত ধরনের সংরক্ষিত শ্রেণীর চাকরিপ্রার্থীরা এই সুবিধা নিতে পারবেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে উচ্চমাধ্যমিকে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে এবং তাকে অবশ্যই Graduation বা Post Graduation পর্যায়ের কোনও পেশাদার কোর্সে নিয়মিত ভর্তি থাকতে হবে। যেমন B.Tech, MBBS, MBA, BBA, B.Sc, B.a, Nursing, MCA ইত্যাদি। ডিস্ট্যান্স এডুকেশন বা পার্ট-টাইম কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা সাধারণত এই সুবিধার আওতায় পড়েন না। এই সুবিধা পেতে গেলে অবশ্যই রেগুলার কোর্সে পড়াশোনা করতে হবে।

কত টাকা পাওয়া যাবে? (Scholarship Amount Details)

স্কলারশিপের আর্থিক সহায়তা ক্যাটাগরি ও লিঙ্গভেদে ভিন্ন হতে পারে। নিচে একটি সারসংক্ষেপ টেবিল দেওয়া হল—

ক্যাটাগরিমাসিক ভাতাবার্ষিক ভাতাসম্ভাব্য সর্বোচ্চ মোট সহায়তা
ছেলে শিক্ষার্থী₹2,500₹30,000₹75,000 (৩ বছর পর্যন্ত)
মেয়ে শিক্ষার্থী₹3,000₹36,000₹75,000 (৩ বছর)
RPF ছেলে₹2,000₹24,000কোর্সভিত্তিক
RPF মেয়ে₹2,250₹27,000কোর্সভিত্তিক

এই অর্থ সরাসরি DBT (Direct Benefit Transfer) পদ্ধতিতে আবেদনকারীর আধার-লিঙ্কড ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। ফলে অর্থ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা বজায় থাকে। তাই এ ক্ষেত্রে আবেদন জানানোর আগে অবশ্যই ব্যাংক একাউন্টের সঙ্গে আধার লিঙ্ক করে রাখতে হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন করবেন?

এই স্কলারশিপের আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইন এবং তা করতে হবে National Scholarship Portal-এর মাধ্যমে। প্রথমে আবেদনকারীকে পোর্টালে নতুন রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। মোবাইল নম্বর ও ইমেইল আইডির মাধ্যমে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়। এরপর লগইন করে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ব্যাংক বিবরণ পূরণ করতে হয়।

ফর্ম পূরণের সময় তথ্য যেন নির্ভুল হয়, তা বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষভাবে মনে রাখবেন যদি ফর্মে কোন ভুল তথ্য দিয়ে থাকেন তাহলে আপনার আবেদন পত্রটি বাতিল হয়ে যাবে। এরপর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট স্ক্যান করে আপলোড করতে হয়। সবশেষে ফাইনাল সাবমিট করার আগে পুরো আবেদনপত্র একবার ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত। আবেদন সম্পন্ন হলে একটি কপি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করা বাঞ্ছনীয়।

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

আবেদন করার সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি লাগবে।

  • মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের মার্কশিট,
  • বর্তমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি রসিদ,
  • Bonafide সার্টিফিকেট,
  • কাস্ট সার্টিফিকেট (যদি প্রযোজ্য হয়),
  • ইনকাম সার্টিফিকেট,
  • আধার কার্ড এবং আধার-লিঙ্কড ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রস্তুত রাখতে হবে।

ডকুমেন্ট আপলোডের সময় ফাইলের সাইজ ও ফরম্যাট পোর্টালের নির্দেশিকা অনুযায়ী হওয়া জরুরি।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখ (Important Dates 2026)

আবেদন সাধারণত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হয় এবং সেপ্টেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত চলতে পারে। আবেদন শেষ হওয়ার পর যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে অক্টোবর মাস থেকে স্কলারশিপের অর্থ বিতরণ শুরু হয়। সঠিক সময়সূচি জানার জন্য নিয়মিত অফিসিয়াল পোর্টালে নজর রাখা প্রয়োজন।

কেন এই স্কলারশিপ এত গুরুত্বপূর্ণ?

অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। নতুন করে অনেকেই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছেন এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার পরেই তারা কলেজে অথবা কোন ডিগ্রী করছে ভর্তি হবেন এবং এর পরেই আর্থিক সমস্যা যাতে না পড়তে হয় তার জন্য এই স্কলারশিপ। PM Scholarship Scheme 2026 সেই বাধা দূর করার একটি বড় পদক্ষেপ। এই সহায়তা শিক্ষার্থীদের শুধু আর্থিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও শক্তি দেয়। তারা নিশ্চিন্তে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে, ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারে এবং নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পায়।

Pradhan Mantri Scholarship Scheme 2026 শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, বিশেষ করে যারা আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকলেও উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যেতে চায়। আপনি যদি নির্ধারিত যোগ্যতার সমস্ত মানদণ্ড পূরণ করেন, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করা উচিত। সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করুন, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখুন এবং ভবিষ্যতের পথে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যান।

শিক্ষা আপনার অধিকার, আর সেই অধিকার বাস্তবায়নে এই স্কলারশিপ হতে পারে বড় সহায়ক।

Read Also: Jago Scheme 2026: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর এবার মহিলাদের জন্য ₹৫,০০০ অনুদান, জানুন সম্পূর্ণ তথ্য