রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য চালু হওয়া Yuva Sathi Scheme নিয়ে জোর চর্চা চলছে সর্বত্র। অনেকেরই ইতিমধ্যে আবেদন করা হয়ে গিয়েছে এবং অনেকেই এখনো পর্যন্ত আবেদন করেননি। তবে আবেদন শেষ হওয়ার পর থেকেই গুঞ্জন শুরু টাকা ঢোকার ব্যাপার নিয়ে। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই হাজার হাজার প্রার্থী অনলাইন ও অফলাইন ক্যাম্পের মাধ্যমে ফর্ম জমা দিয়েছেন। এখন আবেদন শেষের মুখে দাঁড়িয়ে সকলের একটাই বড় প্রশ্ন—মাসিক ১৫০০ টাকার ভাতা কবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে?
নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, নতুন অর্থবর্ষের শুরু থেকেই অর্থ বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ যারা আবেদন করেছে এবং যাদের আবেদন পত্র গ্রহণযোগ্য হয়েছে তারা এক তারিখ থেকেই একাউন্টে টাকা পেয়ে যাবেন। ফলে এপ্রিল মাসই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা হিসেবে সামনে এসেছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি বোঝার জন্য আবেদন থেকে টাকা পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ জানা জরুরি। কাদের নাম গ্রহণযোগ্য হলো এবং আপনার নাম কি করে চেক করবেন সে ব্যাপারেও বিস্তারিত জানতে পারবেন আপনারা এই প্রতিবেদনে।

আবেদন প্রক্রিয়া শেষ, এবার যাচাইকরণের পালা
১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলেছে। রাজ্যের বিভিন্ন ব্লক ও পৌর এলাকায় বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে অফলাইন ফর্ম সংগ্রহ করা হয়েছে, পাশাপাশি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমেও বহু আবেদন জমা পড়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০ লক্ষ আবেদনপত্র জমা পড়েছে তবে যারা আবেদন করেছেন সকলেই এই টাকা পাবেন না এদের মধ্যে কিছু সংখ্যক বাদ যাবে এবং কারা বাদ যাবেন সেটি নিজেরাই যাচাই করে দেখে নিতে পারবেন অনলাইনের মাধ্যমে।
আবেদন শেষ হওয়ার পরই প্রশাসনিক স্তরে শুরু হয় ডেটা এন্ট্রি ও যাচাইকরণ পর্ব। অফলাইনে জমা পড়া ফর্মগুলি প্রথমে ডিজিটাল পোর্টালে আপলোড করা হবে। ইতিমধ্যে আপলোড করার প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে যারা প্রথমদিকে আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন তাদের আবেদন পত্র আপলোড করা হয়ে গিয়েছে তাই আপনারা অনলাইনে দেখতে পারবেন আপনাদের আবেদন পত্র গ্রহণযোগ্য হয়েছে কিনা। এরপর আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মসংস্থানের অবস্থা এবং ব্যাঙ্ক বিবরণ মিলিয়ে দেখা হবে।
সরকারি ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত করা হবে—
- আবেদনকারী সত্যিই বেকার কিনা
- অন্য কোনও আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন কিনা
- জমা দেওয়া নথি সঠিক কিনা
এই যাচাইকরণ পর্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চূড়ান্ত উপভোক্তা তালিকা তৈরি হবে এই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই।
১লা এপ্রিল থেকে টাকা রিলিজের সম্ভাবনা
প্রথমে শোনা গিয়েছিল স্বাধীনতা দিবস থেকে এই ভাতা চালু হতে পারে। কিন্তু প্রশাসনিক সুবিধা ও নতুন অর্থবর্ষ শুরুর বিষয়টি মাথায় রেখে সময়সীমা এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে খুব শীঘ্রই একাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১লা এপ্রিল ২০২৬ থেকে অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। অর্থাৎ নতুন অর্থবর্ষের প্রথম দিন থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও সামনে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন আর নির্বাচন শুরু হওয়ার আগে থেকেই সরকার চাইছে প্রত্যেকের একাউন্টে সরাসরি টাকা দিতে।
তবে মনে রাখতে হবে, ১লা এপ্রিল ফান্ড রিলিজ মানেই সেদিনই সবার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্যাঙ্কিং প্রক্রিয়া ও প্রযুক্তিগত কারণে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।
DBT বাধ্যতামূলক: ব্যাঙ্ক সংযোগ ঠিক আছে তো?
যুবসাথী প্রকল্পের টাকা সরাসরি ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) পদ্ধতিতে পাঠানো হবে। তাই আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্ত থাকা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও আপনার যদি একাউন্টে কোন সমস্যা থেকে থাকে তাহলে টাকা সরাসরি আপনার ব্যাংক একাউন্টে পাঠানো হবে না তাই আপনি যদি আবেদন জানিয়ে থাকেন তাহলে আপনার ব্যাংক একাউন্টের স্ট্যাটাস একবার অবশ্যই চেক করে নেবেন।
যদি DBT অ্যাক্টিভ না থাকে, তাহলে—
- টাকা মাঝপথে আটকে যেতে পারে
- অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট ব্যর্থ হতে পারে
- পুনরায় যাচাইকরণ লাগতে পারে
সুতরাং মার্চ মাসের মধ্যেই নিজের ব্যাঙ্ক শাখায় যোগাযোগ করে DBT স্ট্যাটাস নিশ্চিত করা বাঞ্ছনীয়।
প্রথম কিস্তিতে সম্ভাব্য বিলম্ব
নতুন প্রকল্প চালুর সময় কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। প্রথম কিস্তির টাকা সকলের একাউন্টে একসঙ্গে জমা নাও হতে পারে কিন্তু একবার টাকা চলে এলে পরের বার থেকে প্রত্যেক মাসের একটা নির্দিষ্ট দিনে সকলের একাউন্টে টাকা জমা হবে। একসঙ্গে লক্ষাধিক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে গেলে ব্যাঙ্কিং সার্ভারে চাপ পড়ে। ফলে—
- এসএমএস দেরিতে আসতে পারে
- অ্যাকাউন্টে টাকা দেখাতে ২–৫ দিন লাগতে পারে
- কিছু ক্ষেত্রে পুনরায় যাচাই প্রয়োজন হতে পারে
এই পরিস্থিতিতে আবেদনকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্ট্যাটাস কীভাবে দেখবেন?
মার্চের শেষ সপ্তাহে অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে আবেদন নম্বর দিয়ে লগইন করলে নিজের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে কিনা তা দেখা যাবে। যদি “Approved” বা “Verified” দেখায়, তাহলে টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত বলা যায়।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও সামাজিক গুরুত্ব
Yuva Sathi Scheme মূলত বেকার যুবকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে চালু হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ফর্ম ফিল-আপ, কোচিং ফি, বই কেনা বা যাতায়াত খরচ—এই সব ক্ষেত্রেই মাসিক ১৫০০ টাকা বড় সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পেলে চাকরিপ্রার্থীরা আরও মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারবেন। ফলে দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ এক নজরে
| বিষয় | সম্ভাব্য সময়সীমা |
|---|---|
| আবেদন শুরু | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| আবেদন শেষ | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| যাচাইকরণ | মার্চ ২০২৬ |
| ফান্ড রিলিজ | ১ এপ্রিল ২০২৬ (সম্ভাব্য) |
| প্রথম কিস্তি | এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ |
যুবসাথী প্রকল্প রাজ্যের বেকার যুবসমাজের জন্য একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আবেদন পর্ব শেষের পর এখন নজর এপ্রিল মাসের দিকে। প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, নতুন অর্থবর্ষের শুরু থেকেই টাকা পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে।
তবে প্রথম কিস্তিতে সামান্য বিলম্ব হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই আবেদনকারীদের ধৈর্য ধরে অফিসিয়াল পোর্টাল নজরে রাখা উচিত। ব্যাঙ্কে DBT সক্রিয় থাকলে এবং আবেদন অনুমোদিত হলে এপ্রিল মাসেই ১৫০০ টাকা অ্যাকাউন্টে পৌঁছানোর সম্ভাবনা প্রবল।

With over 5 years of professional writing experience, I specialize in crafting high-quality, SEO-optimized content that drives engagement.
