ভারত এখন দ্রুত এগোচ্ছে ডিজিটাল পরিকাঠামোর দিকে। সরকারি পরিষেবা হোক বা ব্যক্তিগত কাজ—সব ক্ষেত্রেই অনলাইন ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ছে। তাই ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঘরে বসে সব কাজ করা সম্ভব। এই ডিজিটাল যুগে ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving Licence) তৈরির প্রক্রিয়াও অনেক সহজ হয়েছে। আগে লাইসেন্স বানাতে আরটিও (RTO) অফিসে বারবার যেতে হত, এমনকি দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হত এবং অনেক সময় দালালের সাহায্য নিতে হত, তাও দেখা যেতো কাজ হয় নি। কিন্তু এখন প্রযুক্তির সাহায্যে বাড়িতে বসেই লার্নার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা সম্ভব।

আপনার বয়স যদি ১৮ বছর বা তার বেশি হয় এবং আপনি গাড়ি বা বাইক চালাতে চান, তাহলে আইন অনুযায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। এই প্রতিবেদনে ধাপে ধাপে জানানো হলো—কেন লাইসেন্স জরুরি, কীভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন, কী কী ডকুমেন্ট লাগবে এবং কীভাবে স্থায়ী লাইসেন্স পাবেন।
কেন ড্রাইভিং লাইসেন্স এত গুরুত্বপূর্ণ?
ড্রাইভিং লাইসেন্স শুধু গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্র নয়, এটি একটি সরকারি স্বীকৃত পরিচয়পত্রও। আধার কার্ড বা প্যান কার্ডের মতোই অনেক ক্ষেত্রে এটি পরিচয় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
লাইসেন্স থাকার প্রধান সুবিধা
বর্তমান দিনে গাড়ি চালাতে হলে ড্রাইভিং লাইসেন্স অত্যন্ত জরুরি। ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলে বৈধভাবে গাড়ি বা বাইক চালানোর অনুমতি দেয়। ট্রাফিক পুলিশের চেকিংয়ে আইনি সুরক্ষা জন্য প্রয়োজন। সরকারি ও বেসরকারি কাজে পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহারযোগ্য। আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিটের জন্য প্রয়োজনীয়। গাড়ির বিমা ক্লেইমের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে জরিমানা, মামলা বা এমনকি জেল পর্যন্ত হতে পারে। তাই নিরাপদ ও আইনি ভাবে রাস্তায় নামতে হলে ড্রাইভিং লাইসেন্স অপরিহার্য।
অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া
বর্তমানে সারা দেশে কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রকের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। পশ্চিমবঙ্গসহ সব রাজ্যের আবেদন একই পোর্টালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
ধাপে ধাপে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া
ধাপ ১: অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান
পরিবহণ মন্ত্রকের অফিসিয়াল পোর্টালে ভিজিট করুন:
👉 https://parivahan.gov.in
ধাপ ২: নিজের রাজ্য নির্বাচন করুন
ওয়েবসাইটে “Online Services” অপশন থেকে “Driving Licence Related Services” বেছে নিন এবং নিজের রাজ্যের নাম নির্বাচন করুন।
ধাপ ৩: Learner’s Licence আবেদন করুন
“Apply for Learner’s Licence” অপশন নির্বাচন করুন।
ধাপ ৪: আবেদন ফর্ম পূরণ করুন
নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, মোবাইল নম্বরসহ সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন।
ধাপ ৫: প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করুন
স্ক্যান করা নথি ও ছবি আপলোড করুন।
ধাপ ৬: ই-সাইন ও ফি প্রদান
আধার ভিত্তিক ই-সাইন সম্পন্ন করুন এবং নির্ধারিত আবেদন ফি অনলাইনে জমা দিন।
ধাপ ৭: স্লট বুকিং ও পরীক্ষা
লার্নার লাইসেন্স পরীক্ষার জন্য স্লট বুক করুন। অনেক ক্ষেত্রে আধার থাকলে অনলাইন পরীক্ষার সুবিধা পাওয়া যায়।
আধার কার্ড থাকলে কী সুবিধা?
যদি আবেদনকারীর আধার কার্ড থাকে এবং মোবাইল নম্বর আধারের সঙ্গে লিঙ্ক করা থাকে, তাহলে—
- অনলাইন ভেরিফিকেশন দ্রুত হয়
- বাড়িতে বসেই অনলাইন টেস্ট দেওয়া যায় (যেখানে প্রযোজ্য)
- ই-লার্নার লাইসেন্স দ্রুত ইস্যু হয়
আধার না থাকলে বা ভেরিফিকেশন না হলে নির্দিষ্ট RTO অফিসে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হবে।
লার্নার লাইসেন্স (Learner’s Licence) পাওয়ার পর কী করবেন?
লার্নার লাইসেন্স সাধারণত ৬ মাসের জন্য বৈধ থাকে। এই সময়ে আপনি প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন।
গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
- গাড়িতে স্পষ্টভাবে “L” চিহ্ন লাগাতে হবে
- অভিজ্ঞ লাইসেন্সধারী চালকের তত্ত্বাবধানে চালানো উচিত
- ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক
লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার ৩০ দিন পর থেকে স্থায়ী লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যায়।
স্থায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার নিয়ম
স্থায়ী লাইসেন্স পেতে হলে আপনাকে ড্রাইভিং টেস্টে অংশ নিতে হবে।
প্রক্রিয়া
- অনলাইনে “Apply for Driving Licence” নির্বাচন করুন
- টেস্টের জন্য স্লট বুক করুন
- নির্দিষ্ট দিনে RTO অফিসে উপস্থিত হন
- বাস্তবিক গাড়ি চালানোর পরীক্ষা দিন
পরীক্ষায় পাশ করলে স্থায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করা হবে এবং কয়েকদিনের মধ্যে আপনার ঠিকানায় পাঠানো হবে।
ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
নীচের টেবিলে প্রয়োজনীয় নথির তালিকা দেওয়া হলো—
| ডকুমেন্টের নাম | কেন প্রয়োজন | বাধ্যতামূলক কিনা |
|---|---|---|
| আধার কার্ড | পরিচয় ও ঠিকানা প্রমাণ | অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ |
| জন্মতারিখের প্রমাণ (Birth Certificate/স্কুল সার্টিফিকেট) | বয়স যাচাই | বাধ্যতামূলক |
| ভোটার কার্ড / বিদ্যুৎ বিল | ঠিকানার প্রমাণ | প্রয়োজনীয় |
| পাসপোর্ট সাইজ ফটো | আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য | প্রয়োজন |
| আবেদন ফি রসিদ | পেমেন্ট প্রমাণ | বাধ্যতামূলক |
ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি কাঠামো (সাধারণ নির্দেশিকা)
| পরিষেবা | আনুমানিক ফি (টাকা) |
|---|---|
| লার্নার লাইসেন্স আবেদন | ₹150 |
| লার্নার টেস্ট ফি | ₹50 |
| স্থায়ী লাইসেন্স টেস্ট ফি | ₹300 |
| লাইসেন্স ইস্যু চার্জ | ₹200 |
(রাজ্যভেদে কিছু পরিবর্তন হতে পারে)
দালাল থেকে সাবধান
অনেক সময় কিছু অসাধু ব্যক্তি লাইসেন্স বানানোর নামে অতিরিক্ত টাকা দাবি করে। মনে রাখবেন—
- পুরো প্রক্রিয়া সরকার নির্ধারিত
- অনলাইনে নিজেই আবেদন করা যায়
- কাউকে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া আইনত অপরাধ
ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে ড্রাইভিং লাইসেন্স বানানো এখন আগের তুলনায় অনেক সহজ। বাড়িতে বসেই লার্নার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যায় এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে দ্রুত স্থায়ী লাইসেন্সও পাওয়া সম্ভব।
আপনার বয়স যদি ১৮ বছর পূর্ণ হয়ে থাকে এবং এখনও লাইসেন্স না বানিয়ে থাকেন, তাহলে দেরি না করে আজই অনলাইনে আবেদন করুন। বৈধ লাইসেন্স নিয়ে নিরাপদে ও নিশ্চিন্তে রাস্তায় নামুন।

With over 5 years of professional writing experience, I specialize in crafting high-quality, SEO-optimized content that drives engagement.
