পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড় ঘোষণা। মাসে ১,৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি নিয়ে শুরু হয়েছে Banglar Yuva Sathi প্রকল্প। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। লক্ষ লক্ষ আবেদন জমা পড়ার পর এবার আবেদনকারীদের সুবিধার্থে চালু করা হয়েছে বিশেষ হেল্পডেস্ক ও অনলাইন স্টেটাস চেক ব্যবস্থা।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-র নেতৃত্বে চালু হওয়া এই প্রকল্পকে অনেকেই ২০২৬-এর আগে বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। বাজেটে ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী Chandrima Bhattacharya। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের জন্য ৫,০০০ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

Read Also: Birth Certificate New Rules 2026: জন্ম সনদে বড় পরিবর্তন, কড়া নির্দেশিকা জারি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের

কী এই ‘বাংলার যুবসাথী’ প্রকল্প?

এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য রাজ্যের বেকার যুবসমাজকে আর্থিকভাবে সাময়িক সহায়তা দেওয়া। যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত এই ভাতা চালু থাকতে পারে, যদি ওই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চাকরি না পান।

যোগ্যতার মূল শর্তগুলি হলো—

  • পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে
  • ন্যূনতম মাধ্যমিক উত্তীর্ণ
  • বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে
  • বর্তমানে বেকার থাকতে হবে

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—যাঁরা ইতিমধ্যেই অন্যান্য রাজ্য সরকারি ভাতা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন না।

আবেদনের বিপুল সাড়া

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৮৪ লক্ষের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে—

  • প্রায় ৬৫ লক্ষ আবেদন ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরের মাধ্যমে
  • প্রায় ১৯ লক্ষ আবেদন অনলাইনে

এই বিপুল সংখ্যক আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করতে গিয়ে প্রশাসনিক চাপ তৈরি হওয়ায় এবার আলাদা হেল্পডেস্ক চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হেল্পডেস্ক চালু: এক ফোনেই মিলবে তথ্য

আবেদনকারীদের প্রশ্নের উত্তর ও অভিযোগ জানাতে রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের উদ্যোগে বিশেষ হেল্পডেস্ক চালু হয়েছে।

📞 ফোন নম্বর: ৬২৯২২৪৮৮৮৮
🕥 সময়: সোমবার থেকে শুক্রবার, সকাল ১০:৩০ – বিকেল ৫:৩০
(সরকারি ছুটির দিনে পরিষেবা বন্ধ থাকবে)

এই নম্বরে ফোন করে আবেদনপত্রের বর্তমান অবস্থা, নথি সংক্রান্ত সমস্যা বা অন্যান্য জিজ্ঞাসার সমাধান জানা যাবে।

কীভাবে ঘরে বসে অ্যাপ্লিকেশন স্টেটাস চেক করবেন?

যাঁরা অনলাইনে আবেদন করেছেন বা শিবিরে ফর্ম জমা দিয়েছেন, তাঁরা ঘরে বসেই মোবাইলের মাধ্যমে স্টেটাস চেক করতে পারবেন।

ধাপে ধাপে পদ্ধতি:

  1. সরকারি পোর্টালে যান: https://apas.wb.gov.in/
  2. হোমপেজে ‘Check Status’ অপশনে ক্লিক করুন
  3. আবেদন করার সময় দেওয়া মোবাইল নম্বর লিখুন
  4. ক্যাপচা পূরণ করে ‘Get OTP’ নির্বাচন করুন
  5. মোবাইলে পাওয়া OTP দিয়ে ‘Verify Pin’ করুন
  6. স্ক্রিনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও আবেদন সংক্রান্ত তথ্য দেখা যাবে

এছাড়া ‘Application Form’ অপশনে ক্লিক করে জমা দেওয়া ফর্মও দেখা যাবে।

অফলাইনে আবেদন করলে কী করবেন?

যাঁরা ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরে আবেদন করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে তথ্য না-ও দেখা যেতে পারে। কারণ বিপুল সংখ্যক ফর্ম ধাপে ধাপে অনলাইনে আপলোড করা হচ্ছে।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে—

  • শিবিরের ফর্ম আপলোড হতে সময় লাগতে পারে
  • আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই
  • কয়েকদিন পর পুনরায় চেক করুন

ডুপ্লিকেশন নিয়ে সতর্কবার্তা

অনেকেই প্রশ্ন করছেন—অফলাইনে আবেদন করার পর যদি অনলাইনে তথ্য না দেখা যায়, তাহলে কি আবার অনলাইনে আবেদন করা যাবে?

প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব হলেও ঝুঁকি রয়েছে। কারণ পরে আধার নম্বরের ভিত্তিতে ডুপ্লিকেশন ধরা পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে একটি আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই প্রশাসন নতুন করে আবেদন করার আগে অপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছে।

Approved না Rejected—কবে জানা যাবে?

বর্তমানে পোর্টালে মূলত রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখা যাচ্ছে। আবেদনটি অনুমোদিত (Approved) না বাতিল (Rejected)—এই চূড়ান্ত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

চূড়ান্ত যাচাইকরণ সম্পন্ন হলে ধাপে ধাপে সেই তথ্য আপলোড করা হবে। নির্বাচিত প্রার্থীরা এপ্রিল মাস থেকে ভাতা পেতে শুরু করতে পারেন বলে সূত্রের খবর।

ছোটখাটো ভুলে আতঙ্ক নয়

আবেদনে যদি সামান্য ভুল থাকে, তাহলে এখনই উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রয়োজনে স্থানীয় BDO বা SDO অফিসে যোগাযোগ করে সংশোধনের সুযোগ থাকতে পারে।

প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট—
👉 সঠিক নথি জমা দিন
👉 মোবাইল নম্বর সচল রাখুন
👉 অফিসিয়াল আপডেটের জন্য অপেক্ষা করুন

ভোটের আগে বড় সামাজিক বার্তা?

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই প্রকল্প শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, যুব সমাজের প্রতি একটি বড় বার্তা। বেকারত্ব ইস্যু যখন জাতীয় স্তরে আলোচিত, তখন রাজ্যের এই উদ্যোগকে অনেকেই কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে সাধারণ যুবকদের কাছে এটি রাজনীতি নয়, বরং মাসের শেষে কিছুটা আর্থিক স্বস্তির প্রতিশ্রুতি।

‘বাংলার যুবসাথী’ প্রকল্প ইতিমধ্যেই রাজ্যের যুবসমাজের মধ্যে আশা তৈরি করেছে। বিপুল আবেদনই তার প্রমাণ। এখন চোখ চূড়ান্ত তালিকা ও এপ্রিল থেকে সম্ভাব্য ভাতা শুরুর দিকে। আপনি যদি আবেদন করে থাকেন, তাহলে আজই অনলাইনে বা হেল্পডেস্ক নম্বরে যোগাযোগ করে নিজের স্টেটাস জেনে নিন। ছোটখাটো দেরি বা প্রযুক্তিগত সমস্যায় ভয় না পেয়ে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলুন। এক ফোনেই মিলতে পারে আপনার ১,৫০০ টাকার আপডেট।

Read Also: Lakshmi Bhandar New Rules 2026: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে নতুন নিয়ম, সতর্ক না হলে বন্ধ হতে পারে ভাতা