ভারতের অসংগঠিত ক্ষেত্রের কোটি কোটি শ্রমিকের জন্য বড় স্বস্তির খবর। এবার কেন্দ্র সরকার নিয়ে এসেছে বিশাল বড় একটি প্রকল্প যেখানে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে পাওয়া যাবে। কেন্দ্র সরকারের উদ্যোগে চালু থাকা E-Shram পোর্টালের মাধ্যমে শ্রমিকরা এখন একটি ইউনিক পরিচয় নম্বর (UAN) পাচ্ছেন এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে মাসিক ₹৩,০০০ পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পেতে পারেন। আপনিও যদি একজন ভারতবাসী হয়ে থাকেন তাহলে আপনিও এই কার্ড বানিয়ে নিতে পারেন এবং এই সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী অসংগঠিত শ্রমিকরা এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। কৃষিশ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, রিকশাচালক, গৃহকর্মী, হস্তশিল্পী, ক্ষুদ্র ব্যবসার কর্মচারী—সবাই এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।

ই-শ্রম কার্ড কী?
ই-শ্রম কার্ড হলো অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য একটি জাতীয় ডাটাবেসভিত্তিক পরিচয়পত্র। এটি National Database of Unorganised Workers (NDUW)–এর অংশ। আধার কার্ড যেমন ভারতের একজন নাগরিকের পরিচয় পত্র তেমনি এই কার্ড থাকলে আপনি ভারতের একজন নাগরিক ও শ্রমিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করবেন এবং প্রতি মাসে মাসে টাকা পাবেন। এই কার্ডের মাধ্যমে— শ্রমিকদের একটি ইউনিক UAN নম্বর দেওয়া হয়, সরকার সরাসরি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে এবং দুর্ঘটনা বীমা, পেনশন ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান সহজ হয়।
কেন এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতের অর্থনীতির বড় অংশ অসংগঠিত ক্ষেত্রের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই শ্রমিকদের জন্য পেনশন, বীমা বা স্থায়ী সামাজিক সুরক্ষা ছিল না। ভারতবর্ষের জনসংখ্যার একটা বড় অংশ কৃষি কাজের সঙ্গে বা বিভিন্ন শ্রমিক শ্রেণীর কাজের সাথে যুক্ত রয়েছে তাই এদের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার জন্যই কেন্দ্র সরকারের এই উদ্যোগ।
ই-শ্রম কার্ডের মাধ্যমে সরকার—
- শ্রমিকদের নথিভুক্ত করছে এর ফলে আপনার কাজের প্রয়োজন হলে যে কোন সময় আপনি কাজ পেয়ে যাবেন
- ভবিষ্যৎ পেনশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে অর্থাৎ এর মাধ্যমে আপনি প্রতি মাসে মাসে 3000 করে টাকা পেয়ে যাবেন।
- দুর্ঘটনা বীমা দিচ্ছে
- DBT পদ্ধতিতে সরাসরি অর্থ স্থানান্তর করছে
মাসে ₹৩,০০০ কীভাবে পাবেন?
ই-শ্রম কার্ডধারীরা Pradhan Mantri Shram Yogi Maandhan (PM-SYM) স্কিমে যুক্ত হতে পারেন।
এই স্কিমের অধীনে:
- বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হলে
- প্রতি মাসে ₹৩,০০০ নিশ্চিত পেনশন দেওয়া হয় কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে
- শ্রমিকের অবদানের সমপরিমাণ অর্থ সরকার জমা করে
মাসিক অবদান (বয়সভিত্তিক)
| বয়স | শ্রমিকের মাসিক অবদান |
|---|---|
| ১৮ বছর | ₹৫৫ |
| ২৫ বছর | ₹৮০ |
| ৩০ বছর | ₹১০০ |
| ৪০ বছর | ₹২০০ |
(বয়স যত বেশি, অবদান তত বেশি)
আবেদন করার শর্ত
এই প্রকল্পে আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে এবং তাঁর বয়স ১৮ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে থাকতে হবে। আবেদনকারীকে অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে এবং মাসিক আয় ₹১৫,০০০-এর কম হতে হবে, যা Pradhan Mantri Shram Yogi Maandhan (PM-SYM)–এর নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী প্রযোজ্য। পাশাপাশি একটি সক্রিয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আধারের সঙ্গে লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া EPFO, ESIC-এর সদস্য বা আয়করদাতা হলে এই প্রকল্পে আবেদন করা যাবে না।
অতিরিক্ত সুবিধা
ই-শ্রম কার্ড থাকলে শ্রমিকরা Pradhan Mantri Suraksha Bima Yojana (PMSBY)–এর আওতায় দুর্ঘটনা বীমা পান। অর্থাৎ এই প্রকল্পে আপনি নাম লেখালে আপনার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হয়ে যাবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আপনার চিন্তা করতে হবে না।
বীমা সুবিধা:
- দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতা: ₹২ লক্ষ
- আংশিক অক্ষমতা: ₹১ লক্ষ
এছাড়াও অন্যান্য কেন্দ্রীয় প্রকল্প যেমন PM Kisan, Pradhan Mantri Awas Yojana এবং Ayushman Bharat–এর সুবিধা পেতে সহায়ক হতে পারে (যোগ্যতা সাপেক্ষে)।
আবেদন পদ্ধতি (Step-by-Step)
১. অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান: https://eshram.gov.in
২. আধার নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন
৩. OTP ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন
৪. ব্যক্তিগত তথ্য, পেশা, ঠিকানা ও ব্যাংক তথ্য পূরণ করুন
৫. প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করুন
৬. সাবমিট করার পর PDF আকারে ই-শ্রম কার্ড ডাউনলোড করুন
সমস্ত আবেদন কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে যাচাই হয়। অনুমোদনের পর DBT পদ্ধতিতে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়।
ই-শ্রম কার্ড শুধুমাত্র একটি পরিচয়পত্র নয়—এটি অসংগঠিত শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার একটি বড় পদক্ষেপ। আপনি যদি আপনার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে চান তাহলে আপনারও এই কার্ড বানিয়ে নেওয়া দরকার। মাসিক ₹৩,০০০ পেনশন, দুর্ঘটনা বীমা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সরাসরি সুবিধা—সব মিলিয়ে এটি শ্রমিক শ্রেণীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আপনি যদি কৃষিকাজ, নির্মাণ, হস্তশিল্প, পরিবহন বা অন্য কোনও অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করে থাকেন, তাহলে আজই ই-শ্রম কার্ডের জন্য আবেদন করুন এবং নিজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করুন।

With over 5 years of professional writing experience, I specialize in crafting high-quality, SEO-optimized content that drives engagement.
