পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের মহিলাদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে সমস্ত প্রকল্প এনেছেন তার মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় প্রকল্প হলো মহিলাদের জন্য লক্ষী ভান্ডার প্রকল্প। সাম্প্রতিক কিছুদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পের টাকা প্রচুর পরিমাণে বাড়িয়ে দিয়েছেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার–এর সাফল্যের পর এবার আলোচনায় এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ — জাগো প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (Self Help Group) সঙ্গে যুক্ত মহিলারা এককালীন ₹৫,০০০ পর্যন্ত আর্থিক অনুদান পাচ্ছেন। আপনিও যদি এখনো এই প্রকল্পে আবেদন না করে থাকেন বা এই প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি বিস্তারিতভাবে এই প্রকল্প সম্পর্কে জানতে পারবেন এই প্রতিবেদনে।

২০২৬ সালে এই প্রকল্প নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে, কারণ গ্রাম ও শহর—উভয় অঞ্চলের মহিলাদের ক্ষুদ্র ব্যবসা, উৎপাদন এবং স্বনিযুক্তির ক্ষেত্রে এই অর্থ বড় সহায়তা দিচ্ছে। নিচে জাগো প্রকল্প সম্পর্কিত সাম্প্রতিক ও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হল।

Read Also: E Shram Card 2026: কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে মাসিক ₹৩,০০০ পেনশন ও একাধিক সুবিধা

কী এই জাগো প্রকল্প?

জাগো প্রকল্প মূলত পশ্চিমবঙ্গের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য মহিলাদের জন্য চালু একটি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। এই স্কিমের প্রধান উদ্দেশ্য হলো— গ্রামের এবং শহরের মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা এর পাশাপাশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে শক্তিশালী করা এবং ক্ষুদ্র ও ছোট ব্যবসাকে উৎসাহ দেওয়া এছাড়াও গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা। এই প্রকল্পটি রাজ্যের স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্বনিযুক্তি দফতরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। সরকারের মতে, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে শুধু ব্যক্তি নয়, পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতির সামগ্রিক উন্নতি সম্ভব।

কত টাকা পাওয়া যায়?

জাগো প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি যোগ্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে এককালীন ₹৫,০০০ অনুদান দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই টাকা দেওয়া হয় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্য মূলত এই টাকা দেওয়া হচ্ছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

  • টাকা সরাসরি গোষ্ঠীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়
  • DBT (Direct Benefit Transfer) পদ্ধতিতে অর্থ প্রদান
  • ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নয়, শুধুমাত্র গোষ্ঠীর অ্যাকাউন্টে অর্থ প্রদান

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই প্রকল্পের জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং লক্ষাধিক স্বনির্ভর গোষ্ঠী এর সুবিধা পাচ্ছে।

কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন?

জাগো প্রকল্পে আবেদন করার জন্য নিম্নলিখিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে—

  • আবেদনকারীকে অবশ্যই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য হতে হবে
  • গোষ্ঠীটি কমপক্ষে ১ বছর সক্রিয় থাকতে হবে
  • গোষ্ঠীর নামে সক্রিয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে
  • ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ₹৫,০০০ ব্যালেন্স থাকতে হবে
  • টার্ম লোন বা ক্যাশ ক্রেডিট লিমিট থাকতে হবে
  • গোষ্ঠীতে শুধুমাত্র মহিলা সদস্য থাকতে হবে

শহর ও গ্রাম—দুই ক্ষেত্রেই এই প্রকল্প প্রযোজ্য।

টাকা কবে দেওয়া হয়?

সাধারণত বছরে একবার এই অনুদান প্রদান করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মার্চ–এপ্রিল মাসের মধ্যে টাকা গোষ্ঠীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এখনো যদি এই প্রকল্পে টাকা পাওয়ার জন্য আবেদন না করে থাকেন তাহলে অবশ্যই আবেদন জানাতে পারেন।

আবেদন করতে হয় কি?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আলাদা করে ব্যক্তিগত আবেদন করতে হয় না। ব্লক বা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে যোগ্য গোষ্ঠীগুলির তালিকা যাচাই করে অনুমোদন দেওয়া হয়।

কেন জাগো প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ?

২০২৬ সালে রাজ্যের অর্থনৈতিক কাঠামোতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ভূমিকা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে মহিলা নেতৃত্বাধীন ব্যবসা এখন স্থানীয় উন্নয়নের বড় অংশ। রাজ্য সরকার চাইছে রাজ্যের মহিলারা স্বাবলম্বী হোক এবং রাজ্যের মহিলারা নিজের পায়ে দাঁড়ান। তাই মহিলাদের জন্য রাজ্য সরকার বিশেষ করে রাজ্যের জনদরদী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন ধরনের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এনে রাজ্যের মহিলাদের স্বনির্ভর করার চেষ্টা করছেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের পাশাপাশি জাগো প্রকল্প সরাসরি অর্থনৈতিক উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত।

জাগো প্রকল্প ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গের স্বনির্ভর গোষ্ঠীভুক্ত মহিলাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। ₹৫,০০০ হয়তো বড় অঙ্ক নয়, কিন্তু ক্ষুদ্র ব্যবসার ক্ষেত্রে এটি প্রাথমিক মূলধন হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। রাজ্য সরকার চাইছে রাজ্যের মহিলারা স্বাবলম্বী হোক তাই রাজ্য সরকারের এই প্রকল্প।

আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য হন, তাহলে অবশ্যই গোষ্ঠীর যোগ্যতা যাচাই করুন এবং সংশ্লিষ্ট ব্লক অফিসে যোগাযোগ রাখুন। এই প্রকল্পের টাকা না পেয়ে থাকলে অবশ্যই এই প্রকল্পের টাকা আপনি পেয়ে যাবেন। সঠিক তথ্য ও নিয়ম মেনে চললে এই অনুদান আপনার গোষ্ঠীর ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে।

মহিলাদের স্বনির্ভরতার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার জন্য জাগো প্রকল্প ২০২৬ হতে পারে একটি বড় সুযোগ।

Read Also: NSP Scholarship 2026: শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ₹৫০,০০০ পর্যন্ত স্কলারশিপ, জানুন আবেদন পদ্ধতি ও যোগ্যতা